প্রতিবেদনে বলা হয়, বুশবি তার এই দীর্ঘ পথচলায় আমেরিকা মহাদেশের উত্তর দিক দিয়ে হেঁটে, আলাস্কা থেকে রাশিয়া পর্যন্ত বেরিং প্রণালীর বরফ জমা পথ পেরিয়ে এবং মঙ্গোলিয়া ও চীন হয়ে এশিয়া অতিক্রম করেন। পরবর্তীতে কাস্পিয়ান সাগর সাঁতরে পার হয়ে তিনি ইউরোপের দিকে এগিয়ে আসেন। যাত্রাপথে কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যকার দুর্গম এবং বিপজ্জনক ডারিয়েন গ্যাপ (Darien Gap) জঙ্গলও তাকে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। এছাড়াও রাশিয়ায় প্রবেশের পর তাকে কারাবাসের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
মূলত ১২ বছরের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নানা প্রতিকূলতা এবং স্পন্সর সংকটের কারণে তা ২৮ বছরে গড়ায়। গত মাসে তিনি ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হন, যা ছিল তার বাড়ির পথে ফেরার শেষ বড় বাধা। নিজ শহরে পৌঁছানোর পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বুশবি বলেন, “তারা বলে এর পেছনে একটি গ্রামের হাত আছে, তবে সত্যি বলতে আমাকে এখানে ফিরিয়ে আনতে পুরো পৃথিবীর সাহায্য লেগেছে।”
বর্তমানে তার এই ঐতিহাসিক অভিযান নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে তিনি ইংল্যান্ডজুড়ে একটি বক্তৃতার ট্যুর শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
২৮ বছরের দীর্ঘ পদযাত্রা শেষে নিজ শহরে ফিরলেন কার্ল বুশবি
১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে চিলির পুনটাস অ্যারেনাস থেকে ‘গোলিয়াথ এক্সপিডিশন’ (Goliath Expedition) নামের এই মহাকাব্যিক পদযাত্রা শুরু করেছিলেন কার্ল বুশবি। প্রায় ৫০,০০০ কিলোমিটার (৩১,০৭০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যখন হালের নিজ বাড়িতে পৌঁছান, তখন শত শত উৎসুক ও হর্ষউল্লাসিত জনতা তাকে স্বাগত জানায়। দীর্ঘ এই যাত্রায় তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাধা, ভিসা সংকট, স্পন্সরের অভাব এবং ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।