পুলিশ কর্মকর্তা আলী রেহমান খান এএফপিকে জানান, পোলিও টিকাদান দলগুলোর সুরক্ষায় একটি নিকটস্থ গ্রামে যাওয়ার সময় এই হামলা চালানো হয়। হামলায় শহীদ দুই পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আহত অপর সদস্যকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, সাধারণত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠী এ ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে। তারা কুসংস্কারবশত বিশ্বাস করে যে পোলিও টিকা হলো শিশুদের বন্ধ্যা করার পশ্চিমা কোনো ষড়যন্ত্র।
এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এক এক্স (টুইটার) বার্তায় এই হত্যাকাষ্টকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পোলিও কর্মীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জাতীয় দায়িত্ব পালনের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
উল্লেখ্য, পোলিও নির্মূলের চলমান দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৯৭টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানে এখনো বন্য পোলিওভাইরাসের প্রকোপ রয়ে গেছে। গত বছর দেশটিতে ৩১ জন পোলিও রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং চলতি বছর নতুন করে এই সংক্রমণ আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
পাকিস্তানে পোলিও কর্মীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি পুলিশ গাড়ি লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং একজন আহত হন। তবে সৌভাগ্যবশত সেসময় পুলিশ গাড়িতে কোনো পোলিও কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।